রাষ্ট্র ঘোষিত শোক দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভিশন গ্রুপের বিরুদ্ধে। আজ ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে, যখন সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক, সংযম ও নীরবতা পালনের নির্দেশনা কার্যকর রয়েছে, সে দিন ভিশন গ্রুপের আয়োজনে উৎসবমুখর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভিশন গার্মেন্টসের জিএম (অপারেশন) শহিদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভিশন গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাঃ এ. কে. এম. হামিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রুপটির ডিরেক্টর এ. এইচ. এ. গাফ্ফার। রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে গান-বাজনা ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনকে অনেকেই দায়িত্বহীনতা ও রাষ্ট্রীয় শোকের প্রকাশ্য অবমাননা হিসেবে দেখছেন।

বিশিষ্টজনদের মতে, রাষ্ট্রশোক কোনো আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়; এটি জাতির সম্মান, সম্মিলিত আবেগ এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার প্রতীক। এ ধরনের দিনে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা শুধু নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ নয়, বরং সরকারি নির্দেশ অমান্য করে আইন ভঙ্গের শামিল।
ঘটনাটি ঘিরে আরও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগকারীরা বলছেন, প্রকাশ্যভাবে রাষ্ট্রীয় শোক ভঙ্গ হলেও সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—আইন কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, নাকি প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় সরকারি আদেশ অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সে ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তা আইনের প্রতি উপহাস এবং দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার নজির তৈরি করে।

এ ঘটনায় দাবি উঠেছে, শুধু আয়োজকরাই নয়, দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও নীরব দর্শকের ভূমিকায় থেকে সমানভাবে দায় এড়াতে পারেন না।
সংশ্লিষ্ট মহল থেকে অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আয়োজকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, রাষ্ট্রশোককে তুচ্ছ করার সংস্কৃতি চলতে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আইন যদি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর না হয়, তবে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের অর্থও প্রশ্নের মুখে পড়বে।

