ঢাকার সাভারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নাকের অস্ত্রোপচারের সময় আব্রাহাম (১১) নামে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতাল ভাঙচুর করেন। পরে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিবারের ১০ লাখ টাকায় আপস-মীমাংসা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও শিশুটির মা টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সাভার পৌর এলাকার উলাইলে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির টনসিল ও নাকের পলিপাস অস্ত্রোপচারের কথা ছিল।
শিশুটির মা কনা আক্তার ও স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই অদক্ষ চিকিৎসক ও নার্সদের মাধ্যমে অপারেশন করা হয়। তাঁদের দাবি, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই আব্রাহামের মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি আড়াল করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউতে চিকিৎসার কথা বলে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি আগেই মারা গেছে বলে স্বজনদের অভিযোগ।
এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভাঙচুর চালান।
১০ লাখ টাকায় আপসের অভিযোগ
একাধিক সূত্রের দাবি, বুধবার রাতে সাভারের মুক্তির মোড় এলাকার লন্ডনাস রেস্টুরেন্টে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে আপস-মীমাংসা হয়। রেস্টুরেন্টের মালিক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম এবং আবুল কালাম তাপস এতে মধ্যস্থতা করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এরপর রাতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায় পরিবার।
জানা যায়, আপসনামা করে শিশুটির মায়ের হাতে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রেস্টুরেন্টের মালিক সাইফুল ইসলাম ও মধ্যস্থতাকারী আবুল কালাম তাপস আপসের বিষয়টি স্বীকার করলেও টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শিশুটির মা কনা আক্তারও টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।
ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, “পরিবারকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা রাজি হয়নি। ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নেওয়ার লিখিত আবেদন দিয়ে তারা লাশ নিয়ে যায়।”
এদিকে, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এবং আপস-মীমাংসার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে অস্ত্রোপচারের সময় ঠিক কী কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে, তা স্বাধীন তদন্ত বা চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের মালিক ডা. মো. আব্বাস উদ্দিনের মুঠোফোনে কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

