রাজধানীর রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় ‘শিউলি এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চলছে ভয়াবহ জালিয়াতি ও অবৈধ চোরাচালান ব্যবসা। দুবাই থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা জাফরানের সাথে নকল রাবারের জাফরান মিশিয়ে বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রের মূলহোতা ফয়সাল আহমেদ, যাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি পারিবারিক অপরাধ সিন্ডিকেট ও সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফয়সাল আহমেদ দুবাই প্রবাসী পারভেজ সাহেদির মাধ্যমে ‘লাগেজ পার্টি’র সাহায্যে বিনা শুল্কে অবৈধভাবে জাফরান বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে সেই আসল জাফরানের সাথে হুবহু দেখতে নকল রাবারের জাফরান মিশ্রিত করে উচ্চমূল্যে বাজারজাত করা হয়। ফয়সাল নিজের নামে ‘শিউলি এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি ভুয়া কোম্পানি খুলে ‘ইম্পোর্ট বাই শিউলি এন্টারপ্রাইজ’ সিল ব্যবহার করে ভোক্তাদের প্রতারিত করে আসছেন।

ফয়সালের এই অবৈধ ব্যবসায় সরাসরি তার পরিবারের সদস্যরা জড়িত। অভিযোগ রয়েছে যে, তার বাবা জাহাঙ্গীর আলম, মা শিউলি আলম, ভাই সাইদ আহমেদ রাফি এবং তার বোন ও দুলাভাই এই জালিয়াতির লভ্যাংশ ভোগ করেন এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সহযোগিতা করেন। মূলত পরিবারের প্রশ্রয়েই ফয়সাল দিনের পর দিন এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
ব্যবসা পরিচালনা ও ডেলিভারির জন্য ফয়সাল একটি সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এই বাহিনীতে রয়েছে কালা লিটন, রাসেল ও তৌহিদ,তোতলা সোহাগ ও রবিন। জানা গেছে,তোতলা সোহাগ ও রবিন এরা দুজনেই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এর সক্রিয় কর্মী।
এই বাহিনীটি এলাকায় মহড়া দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অবৈধ পণ্য ডেলিভারির কাজ তদারকি করে। তাদের এই বাহিনী স্টাইলে চলাচলের কারণে স্থানীয়রা মুখ খুলতে সাহস পায় না।

গোপন আস্তানা ও অবস্থান পরিবর্তন:
ফয়সাল তার মূল কার্যক্রম পরিচালনা করেন রামপুরা বনশ্রীর ই-ব্লক, ৩ নম্বর রোডের ২৯ নম্বর হাউসের দ্বিতীয় তলা থেকে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তিনি ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন করেন। গ্রেফতার এড়াতে তিনি আফতাবনগর ও মহানগর প্রজেক্টসহ বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প মেয়াদে বাসা ভাড়া নিয়ে তার অপারেশনাল কার্যক্রম চালান।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ফয়সাল আহমেদ শুধু জাফরান জালিয়াতিতেই সীমাবদ্ধ নন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার নামে থানায় একটি ধর্ষণ মামলাও নথিভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে এই চক্রটি ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছে, যার সিংহভাগই পাচার ও স্থাবর সম্পদে রূপান্তর করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অবৈধ চোরাচালান ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বনশ্রীর ওই ঠিকানায় এবং চক্রের সদস্যদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

