ধামরাই সরকারি কলেজে আয়োজিত পিঠা উৎসবে বহিরাগত নর্তকির নাচকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো একটি পরিবেশে এমন আয়োজন শিক্ষার আদর্শ ও শালীনতার পরিপন্থী বলে অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা। এ ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের দায়িত্ব ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার কথা বলে আয়োজিত পিঠা উৎসবে যে নৃত্য পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ছিল অপ্রাসঙ্গিক ও শালীনতাবিবর্জিত। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অনেকের মতে, পিঠা উৎসব মানেই লোকজ খাবার, গ্রামীণ গান, আবৃত্তি কিংবা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—সেখানে বহিরাগত নর্তকির নাচ আয়োজনের যৌক্তিকতা নেই।
এ বিষয়ে একাধিক অভিভাবক বলেন, “কলেজ কোনো বিনোদন কেন্দ্র নয়। এখানে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও শালীনতার শিক্ষা দেওয়ার কথা, সেখানে এমন আয়োজন আমাদের হতাশ করেছে।”
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন—কে বা কারা এই আয়োজনের অনুমোদন দিয়েছেন, কীভাবে বহিরাগত শিল্পীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আয়োজনের সময় প্রশাসনিক তদারকি কোথায় ছিল।
অনেকেই মনে করছেন, কলেজ প্রশাসনের যথাযথ অনুমতি ও নজরদারির অভাবেই এ ধরনের বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজনের আগে বিষয়বস্তু যাচাই ও পরিবেশ উপযোগিতা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব—এমন মতও উঠে এসেছে।
তবে অপর একটি অংশের দাবি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে পিঠা উৎসবকে আকর্ষণীয় করতেই সাংস্কৃতিক আয়োজন যুক্ত করা হয়েছিল। যদিও তারাও স্বীকার করছেন, পরিবেশনা নির্বাচনে আরও সংযম ও বিচক্ষণতা প্রয়োজন ছিল।
এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, শিক্ষাবান্ধব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নির্বাচন এবং প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যেকোনো আয়োজনেই শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শালীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং প্রশাসন এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

