আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে সংঘটিত গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
বুধবার সকালে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
সকাল ৮টার দিকে শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনাল ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এদের কোন কারাগারে রাখা হবে, সে সিদ্ধান্ত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেবে বলে জানান তিনি।
যেসব কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন:
-
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক, র্যাব
-
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার
-
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান
-
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম
-
ব্রিগেডিয়ার কে. এম. আজাদ
-
কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন
-
কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে)
-
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাবেক পরিচালক, র্যাব গোয়েন্দা শাখা
-
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন
-
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম
-
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রেদোয়ানুল ইসলাম
-
মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম, সাবেক কর্মকর্তা, বিজিবি
-
মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, সাবেক পরিচালক, ডিজিএফআই
-
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, সাবেক পরিচালক, ডিজিএফআই
-
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, সাবেক পরিচালক, ডিজিএফআই
সকাল থেকেই রাজধানীর কাকরাইল, পল্টন, মৎস্য ভবন, হাইকোর্টের মাজার গেটসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাব, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকেন আদালত এলাকা ও এর আশপাশে। অভিযুক্তদের একটি সবুজ রঙের প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় সকাল ৭টার পর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজকের দিনে মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। মামলাগুলোতে অভিযুক্ত রয়েছেন ২৫ জন বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জন। এর মধ্যে ১৫ জন আজ হেফাজতে ছিলেন।

