আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস (১লা মে) উপলক্ষে শ্যামনগর উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আয়োজিত র্যালি ও পথসভায় আশানুরূপ লোকসমাগম না হওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সীমিত উপস্থিতি ও আয়োজনের ঘাটতি র্যালিটিকে প্রাণবন্ত করার বদলে দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
শুক্রবার (১ মে) সকালে শ্যামনগর ট্রাক টার্মিনালের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ না করে সংক্ষিপ্ত পরিসরে ঘুরে স্থানীয় জেসি কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে এক পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা উপস্থিত থাকলেও সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণ ছিল খুবই কম। অতীতে একই এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মসূচিতে যে বিপুল জনসমাগম দেখা গেছে, তার কোনো প্রতিফলন এদিনের র্যালিতে ছিল না। নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার অভাবও ছিল চোখে পড়ার মতো; স্লোগানবিহীন নিরুত্তাপ পরিবেশ পুরো কর্মসূচিকে আরও ম্লান করে তোলে।
স্থানীয় পথচারী ও ব্যবসায়ীরা জানান, র্যালিতে লোকসমাগম কম থাকায় যান চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। স্থানীয় দোকানদার আব্দুল রহিম মিয়া বলেন, “আগে শ্রমিক দলের নাম শুনলেই হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতো, এখন মনে হচ্ছে দলের ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে।”
র্যালিতে লোকসমাগম কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির এক সাবেক সিনিয়র নেতা বলেন, অযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যর্থতা—এই দুই কারণেই মাঠপর্যায়ের কর্মীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তাঁর মতে, “বৃহৎ সংগঠনের দায়িত্ব সঠিক হাতে না থাকলে এমন অবস্থাই তৈরি হয়।”
সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা মনে করছেন, এ ধরনের দুর্বল কর্মসূচি দলের ভেতরের দূরত্ব ও সমন্বয়হীনতারই প্রতিফলন। দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্গঠন না হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দলটিকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

