আমিনবাজার ভূমি অফিসে নথি জালিয়াতি ও সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় নেয়ার অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ৩১৫/২৪ নম্বর মিস মোকাদ্দমার রায় বাতিলসহ ওই রায়ের ভিত্তিতে সৃষ্ট নামজারি জোত বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আমিনবাজার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খান নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি তার দায়িত্ব গ্রহণের আগের হলেও নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “মামলার বাদী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জাল খতিয়ান দাখিল করেছে। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে সরবরাহ করা ৯৮৮ নম্বর খতিয়ান ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে এবং তা সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে। সংশোধিত খতিয়ান অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি জমি আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। সাময়িকভাবে কেউ প্রতারণার মাধ্যমে লাভবান হলেও তা স্থায়ী নয়। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জমি সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে মাপজোক করে সরকারের দখলে নেওয়া হয়েছে।
সহকারী কমিশনার জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছেন এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করছেন।
তিনি একটি উচ্ছেদ অভিযানের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, “দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চলা একটি মামলার রায় বাস্তবায়নে আমি নিজে উপস্থিত থেকে বাদীকে জমির দখল বুঝিয়ে দিয়েছি।”
আরো পড়ুন
আমিন বাজার ভূমি অফিসের ‘পাতা ছেঁড়া’ সিন্ডিকেট, সরকারি জমি ব্যক্তির নামে!
ভূমি দস্যুদের উদ্দেশ্যে তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমি যতদিন এখানে দায়িত্বে আছি, ততদিন সরকারি স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপোষ করা হবে না।”
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য তুলে ধরা জরুরি। কোনো প্ররোচনায় ভুল তথ্য প্রকাশ করে যেন কাউকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন না করা হয়।”
শেষে তিনি জানান, আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল সবসময় সেবা প্রত্যাশী ও গণমাধ্যমকর্মীদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

