ঢাকা: পবিত্র রমজান মাসে ইফতার মাহফিল সাধারণত সৌহার্দ্য, সম্মান ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু নোয়াখালী জেলা সমিতি, ঢাকার সাম্প্রতিক এক ইফতার আয়োজনকে ঘিরে উপস্থিত অনেক অতিথির মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা গেছে। অনেকের মতে, এটি একটি সুশৃঙ্খল ইফতার আয়োজনের চেয়ে বরং বিশৃঙ্খল ও অসম্মানজনক পরিবেশে পরিণত হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের প্রবেশপথে টাঙানো নোটিশে বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যা অনেক অতিথির কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইফতারে আসা অনেক মানুষ অভিযোগ করেছেন যে সেখানে পর্যাপ্ত বসার কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থা ছিল না। শত শত মানুষ উপস্থিত থাকলেও কোথায় বসবে বা কীভাবে ইফতার করবে—এ নিয়ে ছিল চরম বিশৃঙ্খলা।
এছাড়া অনুষ্ঠানে মাইকে যারা নির্দেশনা দিচ্ছিলেন, তাদের বক্তব্যের ধরন নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা উঠেছে। উপস্থিত অনেকের মতে, তারা যেভাবে কথা বলছিলেন তা ছিল অত্যন্ত অগোছালো ও অশোভন। কারও কারও মন্তব্য, “মনে হচ্ছিল যেন রাস্তা-ঘাট থেকে উঠে আসা অশিক্ষিত লোকজন মাইকে যা ইচ্ছা তাই বলে যাচ্ছে, অতিথিদের প্রতি কোনো সম্মান বা শালীনতার বালাই ছিল না।”
সমালোচকরা আরও বলেন, নোয়াখালী জেলার মানুষেরা বিভিন্ন জায়গায় নেতৃত্বের দাবি করেন, কিন্তু এমন বিশৃঙ্খল আয়োজন সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অনেকের মতে, যদি একটি সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মানুষের সম্মান রক্ষা করা না যায়, তাহলে এমন আয়োজনের কোনো অর্থই থাকে না।
উপস্থিত অনেকেই হতাশা প্রকাশ করে বলেন, অন্য জেলার আয়োজনে সাধারণত অতিথিদের সম্মান ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়, কিন্তু এখানে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অতিথিদের প্রত্যাশা—ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে অন্তত মানুষের সম্মান ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

