ঢাকাSunday , 27 September 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাভার উপজেলা ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ভোগান্তিতে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা

অপরাধ আজকাল
March 14, 2026 3:36 pm 👁️ 1,892 বার পড়া হয়েছে
Link Copied!

সাভার উপজেলা ভূমি অফিস এখন সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জন্য ভোগান্তির আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে সক্রিয় দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দালালদের যোগসাজশে অনেক সময় জমির গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

সরেজমিনে কয়েকদিন উপজেলা ভূমি অফিস ঘুরে দেখা যায়, অফিসের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বারান্দা ও কক্ষে দালালদের অবাধ বিচরণ। নামজারি (মিউটেশন), পর্চা উত্তোলন কিংবা বিভিন্ন ভূমি সংক্রান্ত মামলার কাজ করতে গিয়ে অনেক সেবাগ্রহীতাকে বাধ্য হয়ে এসব দালালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, সরাসরি অফিসে ফাইল জমা দিলে নানা অজুহাতে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। কিন্তু দালালের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা দিলে অল্প সময়েই কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী বলেন, “ছোট একটি জমির নামজারির জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে ঘুরছিলাম। কোনো সমাধান না পেয়ে ভূমি অফিসের সামনে এক চায়ের দোকানে থাকা এক ব্যক্তি ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরে বাধ্য হয়ে তাকে টাকা দিয়ে কাজটি করতে হয়।” এভাবে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ দালালদের মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যারা টাকা দিতে রাজি হন না, তাদের ফাইল দীর্ঘদিন পড়ে থাকে অথবা বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে বাতিল করে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাভার ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে তারেক, জজ মিয়া, এমারত, রেজওয়ান, গোপাল, আতিকুর রহমান, গিয়াস, সোলেমান, জসিম, আকরাম, জাহিদ, কাইয়ুম, আফজাল এবং ভূমি অফিসের নেজারত শামীমসহ প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের অনেকেরই ভূমি অফিসের সামনে দোকান বা বিভিন্ন স্থানে আলাদা চেম্বার রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব দালাল ফাইলের ওপর নিজেদের নাম বা বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করে।

সেই চিহ্ন দেখেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বুঝতে পারেন এটি দালাল মারফত আসা ফাইল। ফলে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ করেন সেবাগ্রহীতারা। আরও জানা যায়, অনেক দালাল নিয়মিত অফিস কক্ষে ঢুকে ফাইলপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করেন এবং এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে ফাইল নিয়ে যাতায়াত করেন। এতে সাধারণ মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারেন না কে কর্মকর্তা আর কে দালাল।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো জিয়া উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “ভূমি অফিসে দালাল বা ফাইল হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যারের সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়।” সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের বিষয়ে অভিযোগ পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল আমিনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভূমি অফিসে দালাল চক্র বন্ধ করতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি তদারকি এবং ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।