সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের আগের রাতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে বসে ছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, বিএনপি আসিফ মাহমুদের প্রতি আগ্রহ না দেখানোর পর বাধ্য হয়ে তিনি এনসিপিতে যোগদান করেছেন।
আজ রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এ কথা বলেন। রাশেদের এ বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেছেন, তিনি রাশেদের বক্তব্যকে মন্তব্য করার মতো ‘গুরুত্বপূর্ণ’ মনে করেন না।
রাশেদ খাঁন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘পদত্যাগ করার ঠিক আগের দিন রাতে আসিফ মাহমুদ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে বসে ছিলেন বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য। মাহফুজ আলমও ধানের শীষে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন। যে কারণে দুজন একসঙ্গে বিএনপিতে যোগদান ও নির্বাচনের কনফার্মেশন (নিশ্চয়তা) পাওয়ার জন্য বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বর্তমানে রাষ্ট্রপতি) এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় পর্যায়ক্রমে গিয়েছিলেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করুক, এটা বিএনপি চায়নি। অর্থাৎ বিএনপি আসিফ মাহমুদের প্রতি আগ্রহ না দেখানোর পর তিনি বাধ্য হয়ে এনসিপিতে যোগদান করেছেন। মাহফুজ আলম অবশ্য বিএনপিতে সুযোগ না পেয়ে নৈতিকতা ধরে রেখেছেন। তাঁর এই সততাকে সাধুবাদ জানাই।’
রাশেদ খাঁন লেখেন, গণ-অভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকার কারণে নাহিদ ইসলামের পরই এনসিপিতে আসিফ মাহমুদের অবস্থান থাকার কথা। কিন্তু অতীত বিতর্ক ও এনসিপিতে যোগদান করার বিষয়ে দোদুল্যমান অবস্থানের কারণে তিনি বর্তমানে এনসিপির ‘সুপার সিক্সের’ সর্বশেষ নেতা। অর্থাৎ অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে আসিফ মাহমুদ এনসিপিতে ব্যাপক কোণঠাসা!
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘মিথ্যা কথা বলার জন্যই তাঁকে (রাশেদ) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মন্তব্য করার মতো গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না।’ এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য মাহফুজ আলমের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো প্রশ্ন দেখলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
বেশি আসনে সমঝোতা করার জন্য এনসিপির শীর্ষস্থানীয় এক ডজন নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে বসে থাকতেন বলেও ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি লিখেছেন, ‘কিন্তু বিএনপি এনসিপিকে চারটির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। এ কারণেই বেশি আসন ও নির্বাচনী খরচ পেয়ে জামায়াত জোটে গেছে এনসিপি। অর্থাৎ এনসিপির নতুন রাজনীতি হলো সুবিধাবাদী জিন্দাবাদের রাজনীতি।’
এখন হয়তো আলাদা কোনো সুবিধা পেতে কিংবা জামায়াতের পরামর্শে বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পেইন (প্রচার) শুরু করেছে এনসিপি—এমন মন্তব্য করে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘কিন্তু তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ ব্যর্থ কর্মসূচি। বিএনপি সরকারের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেও তাঁর কিছু করার সক্ষমতা রাখে না এনসিপি। কারণ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো সুযোগে নেতা বনে যাননি। দীর্ঘ সংগ্রাম, মেধা ও যোগ্যতার কারণেই তাঁর আজকের এই পজিশন (অবস্থান)।’
রাশেদ লিখেছেন, জামায়াত-এনসিপির ৯০ জন সংসদ সদস্যের মেধা ও যোগ্যতা এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের সমান নয়। আর এটা তো কারও না বোঝার কথা নয় যে তাদের যন্ত্রণাটা ঠিক এখানেই! তারা মনে করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করে বিএনপিকে চাপে রাখতে পারলে বিরিয়ানির ভাগ আদায় করা যাবে! কিন্তু বিএনপি বিরিয়ানি ভাগ-বাঁটোয়ারার রাজনীতি করে না, বিএনপি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রাজনীতি করে। সুতরাং বিএনপির কাছ থেকে জামায়াত-এনসিপি বিরিয়ানির ভাগ চাইলেও পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

