সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসটি যেন দুর্নীতির এক নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। এ অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন এবং অফিসের পিয়ন হিসেবে কর্মরত ‘আপেল’ নামে এক ব্যক্তি।
চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, আপেল নিবন্ধন পরিদর্শক জেনারেলের (আইজিআর) ব্যক্তিগত গাড়িচালকের আপন ছোট ভাই। এই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি অফিসে এক প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রভাবের জোরে নিয়ন্ত্রণ পুরো অফিস
অভিযোগ রয়েছে, একজন পিয়ন হয়েও আপেলের প্রভাব এতটাই বেশি যে অনেক কর্মকর্তা পর্যন্ত তার আচরণে অস্বস্তিতে থাকেন। দলিল লেখক ও ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বা ‘কমিশন’ না দিলে কোনো ফাইল সাব-রেজিস্ট্রারের টেবিল পর্যন্ত পৌঁছায় না। অফিসের ভেতরের অবৈধ লেনদেনের বড় অংশই তার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
অন্যদিকে, সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আপেলের মাধ্যমে ঘুষের অংক নির্ধারণ করেন। সামান্য ভুল বা অজুহাত দেখিয়ে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করা হয়, আর টাকা দিলেই দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়।
দুর্নীতির প্রধান অভিযোগগুলো
- অতিরিক্ত ফি আদায়: সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও দলিলপ্রতি অতিরিক্ত ৫–১০% পর্যন্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ
- দলিল জালিয়াতি: টাকার বিনিময়ে বিতর্কিত বা জাল দলিল নিবন্ধনের সুযোগ
- সিরিয়াল বাণিজ্য: ঘুষ না দিলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান,
“পৈতৃক জমি রেজিস্ট্রি করতে এসে দেখি প্রতিটি ধাপে টাকা দিতে হচ্ছে। পিয়ন আপেল সরাসরি বলে দিয়েছেন—উপর মহলের নির্দেশ ছাড়া কোনো কাজ হবে না। আমরা সাধারণ মানুষ এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি।”
কর্তৃপক্ষের নীরবতা
অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একইভাবে, পিয়ন আপেলও এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
দ্রুত তদন্তের দাবি
সাভারের সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই দুর্নীতির চক্র ভেঙে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিবন্ধন পরিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।

