গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের নশিরারপাড়া গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভেঙে দেওয়া একটি অনুমোদনহীন ইটভাটা ফের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযানে ইটভাটার বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার এক মাস না যেতেই প্রকাশ্যে শুরু হয়েছে পুনর্নির্মাণের কাজ। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোমেন পালের নেতৃত্বে নশিরারপাড়া গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ‘এমএসবি ব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটার চিমনিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়।
তবে স্থানীয়দের দাবি, অভিযান শেষ হওয়ার এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ভাটাটির পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এদিকে, ওই এলাকার কাঁঠালতলী এলাকায় ‘টিএবি ব্রিকস’ নামে আরও একটি ইটভাটা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, কাঁঠালতলী-মহিমাগঞ্জ সড়ক দিয়ে ইটভাটার মাটিবাহী ট্রাক্টর বেপরোয়া চলাচল করায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নশিরারপাড়া-বড়াইকান্দি সড়কে চলাচলকারী আবু বক্কর ও আব্দুল মমিন মিয়া বলেন, ইটভাটার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চলাচলে নানা সমস্যা হচ্ছে। প্রশাসনের অভিযানে ভাটা ভেঙে দেওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু এখন আবার নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, ইটভাটার ধোঁয়া ও কার্যক্রমের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশের ফসলি জমি।
অভিযোগের বিষয়ে এমএসবি ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী ইনছার আলী মুঠোফোনে বলেন, “আমার কিছু বলার নেই। নানা কারণে দায়-দেনার মধ্যে আছি। ভাটা চালু করা ছাড়া আমাদের পথ নেই।”
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে যথাযথভাবে খোঁজখবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।”
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং পুনর্নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

