ঢোলের এক একটি কাঠি যখন চামড়ার বুকে আঘাত হানে, সেই গম্ভীর ও প্রাণবন্ত সুর নিমিষেই বাঙালির হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে লোকজ উদ্দীপনা। হাজার বছরের এই ঐতিহ্যের ধারক হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের সন্তান আক্তার হোসেন এখন দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে বাজাচ্ছেন বাংলা ঢোল।
আক্তার হোসেনের কাছে ঢোল বাজানো শুধুই কোনো পেশা নয়, এটি তার রগে রগে প্রবহমান এক আজন্ম সাধনা। এই সুরের সূচনা হয়েছিল তার বাবা, প্রখ্যাত ঢোলবাদক সুরুজ মিয়ার হাত ধরে। শৈশবে বাবা সুরুজ মিয়ার কাঠি ধরা দেখেই শুরু হয়েছিল তার সুরের হাতেখড়ি। বাবার কাছ থেকে শেখা সেই তাল ও সুরের মূল চেতনাকে বুক আগলে রেখে আক্তার আজ বিশ্বজুড়ে মঞ্চ কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
একজন খাঁটি শিল্পী হিসেবে আক্তার হোসেন যেভাবে নিজেকে অনন্য করে তুলেছেন:
শিকড়ের উত্তরসূরি: সুরুজ মিয়ার সুযোগ্য ছেলে হিসেবে আক্তার হোসেন বাবার শেখানো সাবেকি তালের মূল ধারা ধরে রেখে তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন আধুনিক পরিবেশনার গতি।
মঞ্চের প্রধান আকর্ষণ: আলোঝলমলে মঞ্চে ঢোলের প্রতিটি বোলে তিনি দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ ও ব্যাকুল করার এক জাদুকরী ক্ষমতার অধিকারী।
বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধি: লাল-সবুজের সংস্কৃতিকে কাঁধে নিয়ে তিনি সফর করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত। একের পর এক রাষ্ট্র সফর করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলা ঢোলের স্বতন্ত্র গাম্ভীর্য তুলে ধরে কুড়িয়েছেন ভূয়সী প্রশংসা।
সুরুজ মিয়ার ঐতিহ্যের মশাল হাতে আক্তার হোসেনের এই আন্তর্জাতিক পথচলা কেবল ব্রাহ্মণবাড়িয়া নয়, পুরো বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এক বিরাট গর্ব। মাটির সুরকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার এই সাধনা যুগের পর যুগ বেঁচে থাকুক—সংস্কৃতিপ্রেমীদের এখন এটিই প্রত্যাশা।

