ঢাকাSunday , 27 September 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানীর ৮৬% বাণিজ্যিক ভবনে নেই নকশা অনুযায়ী পার্কিং, বেজমেন্টে দোকান-গুদাম

অপরাধ আজকাল
June 3, 2026 6:58 pm 👁️ 1,585 বার পড়া হয়েছে
Link Copied!

রাজধানীর ৮৬ দশমিক ২৩ শতাংশ বাণিজ্যিক ভবনে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং সুবিধা নেই বলে জানিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার ২ হাজার ৬৩৭টি ভবন পরিদর্শন করে এ চিত্র উঠে এসেছে। পরিদর্শনকৃত ভবনের মধ্যে মাত্র ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভবনে নকশা অনুযায়ী পার্কিং ব্যবস্থা পাওয়া গেছে।

রাজউকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, পরিদর্শন করা ২ হাজার ৬৩৭টি ভবনের মধ্যে মাত্র ৩৬৩টিতে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং রয়েছে। ৫৩২টি ভবনে পার্কিং এলাকা থাকলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে ১ হাজার ৬৮টি ভবনে পার্কিংয়ের জায়গায় স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া ২১৬টি ভবনে অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে এবং ৪৫৮টি ভবন কর্তৃপক্ষ কোনো অনুমোদিত নকশা দেখাতে পারেনি।

রাজউকের প্রতিবেদনে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া এলাকার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন চারটি মার্কেটের অনিয়মও উঠে এসেছে। ঢাকা ট্রেড সেন্টার, গুলিস্তান ট্রেড সেন্টার, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-১ ও ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২-এর বেজমেন্ট নকশা অনুযায়ী পার্কিং হিসেবে ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে দোকান নির্মাণ করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ডিএসসিসির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-১-এর বেজমেন্টে স্থায়ী দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি নির্মাণাধীন গুলিস্তান ট্রেড সেন্টারের বেজমেন্টেও দোকান স্থাপন করা হয়েছে। ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২-এর বেজমেন্ট অতীতে একবার উদ্ধার করা হলেও সেখানে পুনরায় দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পার্কিং সুবিধার অভাবে গুলিস্তানের ব্যস্ত সড়কে বিভিন্ন যানবাহন থেকে মার্কেটের মালামাল ওঠানামা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়কের একাংশ জুড়ে গাড়ি পার্কিং করায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যা প্রতিদিন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত রাজউকের ৪৪টি বিশেষ টিম রাজধানীর গুলশান, বনানী, তেজগাঁও, প্রগতি সরণি, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, পল্টন ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন চালায়। সেই অভিযানের ফলাফলই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

রাজধানীর যানজট নিরসনে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় বাণিজ্যিক ভবনের পার্কিং স্পেস দোকান ও গুদাম হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। সভায় ভবনগুলোর বেজমেন্ট ও পার্কিং ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে রাজউককে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিকে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ১ হাজার ৮০০ পার্কিং স্পেসের মধ্যে ১ হাজার ১৫০টি কমানোর আবেদনও নাকচ করা হয়েছে। রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, পার্কিং স্পেস কমানোর বিষয়ে করা পুনরায় আবেদনও গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে সংশোধিত নকশার আবেদন বিধি অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

পার্কিং স্পেস দখলমুক্ত করতে গত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্বেচ্ছায় অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার সময় দিয়েছিল রাজউক। নির্ধারিত সময় শেষে ১৬ এপ্রিল থেকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। ঈদুল আজহার আগে ১৬টি বহুতল ভবনের ১৩১টি পার্কিং স্পেস থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে।

রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) জানিয়েছেন, সব অনিয়ম দূর করে নকশা অনুযায়ী পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আরও প্রায় চার মাস সময় লাগতে পারে। বাণিজ্যিক ভবনে অভিযান শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজধানীর আবাসিক ভবনগুলোতেও একই ধরনের চিরুনি অভিযান চালানো হবে।

রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “যানজট নিরসনের স্বার্থে যেসব ভবনের পার্কিং স্পেসে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবনের সংখ্যা অনেক হওয়ায় পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হচ্ছে।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।